বিষয়সমুহ

 

 ইতিহাস 

   ইতিহাস ও ঐতিহ্য              মুক্তিযুদ্ধ     

  

শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি           গুণীজন

  

    জেলা প্রশাসন            স্থানীয় সরকার

 

 সরকারি দপ্তরসমূহ          শিক্ষা সংক্রান্ত

  

       কৃষি ও বন                 ভ্রমণ

  

 পরিবহন ও যোগাযোগ      অর্থ ও বানিজ্য

  

    সমাজ কল্যাণ              স্বাস্থ্য বিষয়ক

  

        গণ-মাধ্যম                 রাজনীতি 

               

                      অন্যান্য

জেলা সৃষ্টির কথকতা Print

জেলা সৃষ্টির কথকতা  

ড. তরুণ কান্তি শিকদার

বিশ্বে প্রতিটি সমৃদ্ধ জনপদের একটি ঐতিহ্যবাহী অতীত রয়েছে। এ অঞ্চলের জনপদ হাজার বছরেরঐতিহ্যমন্ডিত এবং এর প্রাচীনতা সকলকে মুগ্ধ করার মত। দূর অতীতের সৃষ্ট গাঙ্গেয় ব-দ্বীপেরঅংশবিশেষ খুলনা জেলা। এর প্রাচীন নাম বুড়নদ্বীপ। মেগাস্থিনিসের বর্ণনা মতে এ অঞ্চলের নামগঙ্গারিডি। বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগে বুড়ন দ্বীপের নাম হয় বক্দী বা বাগদী। পাল ও সেন রাজাগণের রাজত্বেরঅন্তর্ভুক্ত ছিল এ অঞ্চল।

সেন রাজত্বকালে ভৈরব নদ তীরে ব্রাহ্মণ ও কায়স্থগণ ভূমি প্রাপ্ত হয়ে বসতি স্থাপন করেন এবং এ অঞ্চলে সমৃদ্ধ গ্রাম গড়ে ওঠে। তুর্ক- আফগান আমলে এর নাম হয় খলিফাতাবাদ বা সাতগাঁ।১ বঙ্গে১২০৪ সনে মুসলিম বিজয়ের পর এ অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্ভবতঃ গৌড় সুলতানশামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ (১৩১০- ১৩২৫খ্রীঃ) প্রথম খুলনা দখল করেন এবং শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহেরসময়(১৩৪২- ১৩৫৮খ্রীঃ) খুলনায় মুসলিম বসতি শুরু ও বিস্তার লাভ করে। মোগল আমলে বাদশাআকবরের রাজস্ব মন্ত্রী টোডরমল এ অঞ্চলের রাজস্ব বিভাগের নাম দেন মুরাদখানা বা জিরাদখানা। ষোলশতকে এ অঞ্চল বারভূঁইয়া নেতা প্রতাপাদিত্য এবং পরে সীতারাম রাজার নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল। অতঃপরআঠার শতকে এ অঞ্চল বাংলাদেশের অপরাপর অঞ্চলগুলোর মতো বৃটিশ শাসনাধীনে চলে যায়।

ইংরেজ আমল 

১৭৫৭ সালের পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতা সূর্ষ অস্তমিত হওয়ার পর ব্রিটিশ শাসন সমগ্রবাংলায় বিস্তৃত হয়। তখন থেকে বর্তমান আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয় ভারতবর্ষে। ব্যবসাকরার সূত্র ধরে সুচতুর ইংরেজ জাতি প্রথমে এদেশের প্রশাসনিক ক্ষমতা গ্রহণ করে। অতঃপর নানান ছলচাতুরী আর বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ আধিপত্য গড়ে তোলে। এই ধারাবাহিকতায় ১৭৭২সালে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্ণর হয়ে আসেন। তিনি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ‘‘কমিটি অব রেভিনিউ’’গঠন করে তার দায়িত্ব অর্পণ করেন একজন কালেক্টর-এর উপর। এই সময় ১৭৭২-৭৩ সালেপ্রথমবারের মতো প্রতি জেলায় একজন ইউরোপীয় কালেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়। জেলা কালেক্টরকে রাজস্ব, বিচার ও পুলিশ বিষয়ক সার্বিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। ফলে ভারতবর্ষের পুরা ক্ষমতাপর্যায়ক্রমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে চলে যায়। এই ব্যবস্থায় ১৭৮১সালে টিলম্যান হেঙ্কেল যশোরসার্কেলের কালেক্টর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যশোর, ফরিদপুর ও খুলনা ছিল এই সার্কেলেরঅমতর্ভূক্ত। এর আগে এ অঞ্চল ৪টি থানায় বিভক্ত ছিল।

ক) খুলনার নয়াবাদ খ) ভূষণা গ) মীর্জানগর ও ঘ) ধরমপুর

লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস এর পর ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিস গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনিকমিটি অব রেভিনিউ ভেঙ্গে বোর্ড অব রেভিনিউ গঠন করেন। ১৭৮৬ সালে টিলম্যান হেঙ্কেলের সুপারিশঅনুসারে যশোরকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপামতরিত করা হয়। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু হলেকোম্পানীর ভূমি রাজস্ব তখন প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত ছিল।

এই সময় উভয় জেলার আয় ছিল ৩৩ লক্ষ টাকা। তন্মধ্যে যশোরের প্রায় ১৮লক্ষ এবং খুলনায় ১৫লক্ষ। ক্রমশ সুন্দরবনের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই আয় বৃদ্ধি পায়। সুন্দরবনের আবাদ বৃদ্ধি ও প্রশাসনিককাঠামো জোরদার করার জন্য অতঃপর ১৮৪২সালের নয়াবাদ থানাকে মহকুমায় রূপামতরিত করেখুলনা মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নয়াবাদ থানার তালিমপুর ও শ্রীরামপুরের মধ্যবর্তী কিসমত খুলনায় তাবু খাটিয়ে মহকুমা অফিস বসান হয়। সে সময় খুলনা সদর, বাগেরহাট এবং নড়াইলের কিছু অংশ এমহকুমার অন্তর্ভুক্ত হয়। মহকুমা স্থাপনের কারণ প্রসঙ্গে মিঃ ওয়েস্টল্যান্ড তার রিপোর্টে (১৮৭১) বলেন,

সাহিত্য

ভৈরব রূপসার মিলন কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের বাংলোর শান্ত পরিবেশ আর অশান্ত নদীর কুলকুলধ্বনি যার অমর সাহিত্য সৃষ্টিতে উৎসাহ যুগিয়েছে। এখানে বসেই তিনি রচনা করেন অমর উপন্যাস‘দুর্গেশনন্দিনী’ (প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৮৬৫ সন)। অনুমিত হয় উপন্যাসটি ১৮৬২-১৮৬৪ সালের মধ্যেতিনি রচনা করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৭ বছর। ‘দুর্গেশনন্দিনী’ লেখকের জীবদ্দশায় বিভিন্ন ভাষায়অনুদিত হয়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় উপন্যাসটির খুব সমালোচনা হয়। একটি পত্রিকার সমালোচনায়সন্দেহ প্রকাশ করা হয় উপন্যাসটি স্কট রচিত ‘আইভান হো’ উপন্যাসের ছায়ায় লেখা। যদিও লেখকনিজে ও অনেক সমালোচক একথা স্বীকার করেননি। সোমপ্রকাশ পত্রিকা ১৩ই বৈশাখ, ১২৭২ সালেএকটি নাতিদীর্ঘ সমালোচনা প্রকাশ করে। উপসংহারে সমালোচক বলেন, ‘‘ যদি কেহ তুল্যমানে দুর্গেশনন্দিনীর গুণ দোষের পরিমান করেন, গুণভার গুরু হইবে সন্দেহ নাই।’’ বঙ্কিমচন্দ্র যশোহরখুলনা অঞ্চলে দীর্ঘদিন চাকুরী করেছেন। প্রথম ১৮৫৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ওডেপুটি কালেক্টর হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ১৮৬০ সালের ২১শে জানুয়ারী নেগুয়া (মেদিনীপুর) বদলি হন। সেখান থেকে পুনরায় ১৮৬০ সালের ৯ নভেম্বর খুলনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর হিসেবে বদলি হন এবং ১৮৬৪ সালের ৪ঠা মার্চ পর্যন্ত কর্মরত থাকেন।

চাকুরীর শেষদিকে আবার ১৮৮৫ সনের ১লা জুলাই ঝিনাইদহ (যশোর) মহকুমায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৮৮৬ সনের ১৭ মে কটকে বদলি হন। তিনি অত্যন্ত যোগ্য কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও একমাত্র ভারতীয় বিবেচনায় তাঁর চাকুরী স্থায়ী হয়নি এবং চাকুরীতে পদোন্নতি পাননি।তাই ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৯১ সালে তিনি চাকুরী হতে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। কপালকুন্ডলা রচিত হয়েছিল এই বাংলোর সুশীতল বকুল গাছের ছায়ায়। কপালকুন্ডলা প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালের শেষভাগে। এই উপন্যাসটির বীজ লেখকের মনে উপ্ত হয়েছিল নেগুয়া মহকুমায় চাকুরী করার সময়ে। কারণ নেগুয়া থেকে তিনি খুলনায় বদলি হয়ে আসেন। খুলনা অঞ্চলে সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য, গভীরঅরণ্যে কাপালিক এর অবস্থান লেখকের মনে উপন্যাস সৃস্টির প্রেরণা সঞ্চারে সহায়ক হয়েছে। ভৈরব ও রূপসার মোহনায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর প্রায় ১৭০ বছর বয়সী বকুল গাছটি এখনো সবার উপরেমাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সব কিছুর সাক্ষী হয়ে। ১৯৯৩ সনে খুলনার একজন জেলা প্রশাসক বকুলগাছের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে একটি ফলক উন্মোচন করেন

মহকুমা প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পর 

মহকুমা প্রতিষ্ঠার পর ৪০ বছর অতিক্রামত হয়েছে। পশুর, শিবসা আর কপোতাক্ষ-এর মতো অসংখ্যনদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজস্র জল ধারা। জোয়ার ভাটায় আর পলিমাটি এ অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করেছে।বেড়েছে সুন্দরবনের আয়তন। চাষাবাদের জন্য একদিকে বনভূমি দখল হয়েছে মানুষের দ্বারা।অন্যদিকে বনের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে একাধারে জনসংখ্যা বৃদ্ধিরকারণে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পায়। মহকুমার প্রশাসনের ব্যপ্তি ও প্রসার বৃদ্ধি পায়। এইভাবে নানামুখীপ্রতিকূলতা ও সম্ভবনাকে সামনে রেখে এবং সুন্দরবনকে সংরক্ষণ ও আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন জেলাহিসেবে খুলনা জেলার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৮৮২ সনের ২৫ শে এপ্রিল সরকারীভাবে গেজেটনোটিফিকেশনের মাধ্যমে খুলনা জেলার সৃষ্টি হয়, এ বছরের ১লা জুন থেকে এই জেলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সম্পর্কে তৎকালীন স্টেটম্যান পত্রিকায় নিম্নরূপ সংবাদ পরিবেশিত হয়ঃ

 

New district : From the first instant the much talked new district of Khulna formed of a sub-division of Satkhira, Narail, Khulna and part of the Basirhat has been organized at head quarters of the sub-division bearing the mane of the districts. The district is a third class one having a district Magistrate and Collector at it’s head of affairs. (The statesman, The 2nd may, 1882)

 

তখন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট-এই তিন মহকুমা নিয়ে সৃষ্টি হয় খুলনা জেলা । ঐতিহাসিক সতীশচন্দ্র মিত্র ১৯২১ সনের আদমশুমারী অনুসারে যুক্ত জেলার (যশোহর- খুলনা) জনসংখ্যার একটিপরিসংখ্যান তুলে ধরেন। ১৯২১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী যুক্ত জেলার মোট লোকসংখ্যা৩১,৭৫,২৫৩ জন ; তন্মধ্যে যশোহরে ১৭,২২,২১৯ এবং খুলনায় ১৪,৫৩,০৩৪ জন। ১৮৮২ সনেপৃথক জেলা সৃষ্টির পর খুলনার জনসংখ্যা ৩,৭৬,৫২৩ জন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময় যশোহর-এ লোকসংখ্যা কমেছে ২,০০,৬৯৭ জন। ভৈরব প্রভৃতি নদী মরে যাওয়ায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে জনসংখ্যাকমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ১৯১১ সনের সেন্সাস রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে ‘‘ Jessore like Nadia is a land of moribund rivers and obstructed drainage and declining population.” হিন্দু মুসলমান জনসংখ্যার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যশোহর-এ হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল ৬,৫৬,৩৪৩ জন এবং খুলনায় ৭,২৬,৮৬১ জন। মোট দুই জেলায় ১৩,৮৩,,২০৪ জন হিন্দুছিল। মুসলমান ছিল যশোহর-এ ১০,৬৩,৫৫৫ জন, আর খুলনায় ৭,২২,৮৮৭ জন। মোট ১৭,৮৬,৪৪২ জন। অর্থাৎ দুই জেলায় একত্রে মুসলমানের সংখ্যা শতকরা ৫৬.২৬ জন। যশোহর-এ শতকরা ৩৮.১১জন হিন্দু, ৬১.৭৫ জন মুসলমান এবং অন্য ধর্মাবলম্বী ছিল ০.১৪ জন। অন্যদিকে খুলনায় শতকরা৫০.০২ জন হিন্দু ; প্রায় ৪৯.৭৫ জন মুসলমান ও অন্যান্য প্রায় ০.২৩ ভাগ। সুতরাং দেখা যায় যশোহর-এ মুসলমান অধিবাসীর সংখ্যা হিন্দু অধিবাসীদের দেড়গুণ ছিল। খুলনায় হিন্দু ও মুসলমান প্রায়সমান ছিল। বাংলাদেশ আদমশুমারী ২০০১ অনুযায়ী বর্তমানে খুলনা জেলায় মোট জনসংখ্যা২৩,৭৯,৩৩০ জন। তন্মধ্যে মুসলিম জনবসতি ১৮,২৩,১১৯ জন। মোট জনসংখ্যার ৭৬.৪৪% , হিন্দুজনবসতি ৫,৪০,৬৯৩ জন অর্থাৎ ২২.৭২%, খৃষ্টান ২৮৯ জন অর্থাৎ ০.০১২%, বৌদ্ধ ১৫,৮১৮ জনঅর্থাৎ ০.৬৬% উপজাতি ৩৫৯ জন অর্থাৎ ০.০১৫ জন অর্থাৎ ০.০৪% । তখন উভয় জেলার আয়তনছিল ৭,৬৩৪ বর্গমাইল। তন্মধ্যে সুন্দরবনের ২,২৯৭ বর্গমাইল। সুন্দরবন বাদ দিলে খুলনার আয়তনছিল ২,৪৩৩ বর্গমাইল। অর্থাৎ খুলনার অর্ধেক অংশ ছিল সুন্দরবন।৭ ২৩ জুন ১৮৮৪ সনে প্রশাসনিকপুনর্বিন্যাসের ফলে খুলনা জেলার অবয়ব-এর আর একবার পরিবর্তন হয়। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটকেনতুন জেলা ঘোষণা করা হয়। মহকুমার বিলুপ্তি সাধিত হয়।

‘‘...A subdivision, the first established in first established in bengal was set up here (khulna) in 1842. It’s chief object was to hold in check Mr. Rainey, who had purchased a Zamindari in the vicinity and resided at Nehalpur and who did not seem inclined to acknowledge the restraints of law.”

 

মূলতঃ অত্যাচারী নীলকর মি রেনী ও শিবনাথ ঘোষ-এর পারস্পরিক বিবাদ নিরসনের জন্য নতুন মহকুমার সৃষ্টি হয়। একইভাবে অত্যাচারী ইংরেজ নীলকর মোড়েলের অত্যাচার রোধকল্পে ১৮৬৩ সনে বাগেরহাট মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৬১ সালে সৃষ্টি হয় সাতক্ষীরা মহকুমা। অর্থাৎ খুলনা, বাগেরহাট ওসাতক্ষীর এই তিন মহকুমা বৃহত্তর যশোর জেলার অমতর্ভূক্ত ছিল। প্রবীন আইনজ্ঞ দেলদার আহম্মেদ-এর মতে, ১৮৪৩ থেকে ১৮৪৫ এর মধ্যে খুলনায় প্রথম মুনসেফ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্ভবত এস.ডিও অফিসের কাজ গোলপাতার ঘরেই প্রথম শুরু হয়। যদিও এই সম্পর্কিত কোন নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যায় নি। মাহফেজখানার সবচেয়ে পুরানো নথির নম্বর- ১৩৯/৮০। তাতে দেখা যায় বাবু শ্যামলাল হালদার ১৮৮০ সালে খুলনার মুন্সেফ ছিলেন। এই মামলার বাদী জনৈকা মৃন্ময়ী দেবযা ও প্রতিবাদী প্যারীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। বাদীর উকিল ছিলেন শ্রী তারক চন্দ্র চট্টোপাধ্যয়।৪ মহকুমার প্রধান কার্যালয় পরে রূপসা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ঐ বছর শেষের দিকে বর্তমান স্থানে এপারে স্থানান্তরিত করা হয়। একটি গোলপাতার ঘরে প্রথম মহকুমার কার্যালয় স্থাপিত হয়। পরে মহকুমা প্রশাসকের জন্য আনুমানিক ১৮৪৫ সালে পাকা ইমারতের বাসভবন ও দপ্তর তৈরী হয় যে ভবনটি বর্তমানে জেলা প্রশাসকের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি খুলনা শহরের দ্বিতীয় পাকা ইমারত। প্রথম বাড়ী হিসেবে চার্লি সাহেবের বাড়ীটি পরিচিত। প্রথম মহকুমা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এম এইচ এস শ। এর কিছু কাল পরে ১৮৬০ সালে ৯ নভেম্বর (১৮৬০-১৮৬৪) সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর হয়ে খুলনায় আসেন।

বর্তমানে খুলনা 

বর্তমানে খুলনা জেলার আয়তন ৪,৩৯৬ .৪৬ বর্গ কিঃ মিঃ। তন্মধ্যে সুন্দরবনের আয়তন ৬,০১৭ বর্গকিঃ মিঃ। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪,১৪৩ বর্গ কিঃ মিঃ। জলভাগের পরিমাণ ১,৮৭৪ বর্গ কিঃমিঃ। এ বন বাংলাদেশের আয়তনের ৪.২% ভাগ এবং সমগ্র বনভূমির ৪৪% ভাগ। বর্তমানে খুলনা জেলার দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় মোট ১,৬১৮ বর্গ কিঃ মিঃ সুন্দরবন অবস্থিত। ২০০১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী বর্তমান খুলনার জনবসতি ২৩,৫৭,৯৪০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিঃমিঃ ৫৫৮ জন। ১৮৮২ সনের ১লা জুন থেকে নতুন জেলা খুলনার কাজ শুরু হয় সম্ভবত ডেপুটি কালেক্টর ভবনে। পরে সম্ভবত ১৮৮৫ সনে নির্মিত হয় ভিক্টোরিয়ান এইজ- এর স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন খুলনা কালেক্টরেট ভবন। শতাব্দীর প্রাচীন সুবিশাল এই ভবনটি এখনো জেলার প্রশাসনিক কাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বীকৃত। প্রথমে একতলা ভবন নির্মিত হলেও পরে দ্বিতল ভবনে রূপামতরিত করা হয়। এভবনটি স্থাপত্য ও শিল্প কর্মের এক অপরূপ নিদর্শন হিসেবে দন্ডায়মান রয়েছে পূর্বেই যার উল্লেখ করাহয়েছে। প্রথম ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কালেক্টর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ডব্লিউ এম ক্লে এবংবর্তমানে ৯৫ তম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এন এম জিয়াউল আলম। বাংলাদেশেইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সচেতনতার অভাবে অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন বিলুপ্ত হয়েছে। এজন্য১৮৪২ সন থেকে ১৮৮১ সন পর্যমত কোন কর্মকর্তার নামের তালিকা খুঁজে পাওয়া যায় নি। তবে১৮৮২ সন হতে বর্তমান পর্যমত সকল ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর ও জেলা প্রশাসক গণের একটিসুদৃশ্য নামফলক জেলা প্রশাসক, খুলনার অফিস কক্ষ, বাসভবন ও সার্কিট হাউজে সংরক্ষিত আছে যাখুলনার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল নিদর্শন। পরবর্তী প্রজন্মের অবগতির জন্য পূর্ণাঙ্গ তালিকাটিনিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃকালেক্টরেট ভবন তৈরীর পর রূপসা, ভৈরব নদীর পাশ ঘিরে ক্রমান্বয়ে শহর গড়ে ওঠে। প্রায় একই সময়তৈরী হয় একই ধরনের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন সার্কিট হাউজ। ১৮৭২ সালে ‘কোর্ট অব ডাইরেক্টরস্’এর নির্দেশ মোতাবেক দেওয়ানী গ্রহণ করেই হেস্টিংস ও তার কাউন্সিল দেওয়ানী কার্যক্রম পরিচালনারনীতিমালা নির্ধারণের জন্য ‘কমিটি অব সার্কিট’ নামে একটি অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। গভর্নরওয়ারেন হেস্টিংস ও তাঁর কাউন্সিলের ৪ জন সদস্য নিয়ে এ কমিটি অব সার্কিট গঠিত হয়। কমিটিরপ্রধান দুটি কাজ হলোঃ

ক) পঞ্চবার্ষিকী বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা (নিলাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে)।

খ) দেওয়ানী শাসন কাজ পরিচালনার ব্যাপারে নীতিমালা প্রবর্তন। উল্লেখ্য, এই কমিটির ব্যবহারের জন্যপ্রত্যেক জেলায় একটি সার্কিট হাউজ ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।

লালদালানঃ

পাশাপাশি আর একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন লাল দালান বলে পরিচিত খুলনা জেলা স্কুল ভবন। ১৯৬৪সনে কোম্পানীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সমতানদের পড়াশুনার সুবিধার্থে স্কুলটি প্রথম বেসরকারীভাবে চালুহয়। পরে ১৮৮৫ সনের এপ্রিল মাসে সরকারীকরণ করা হয়। ভিক্টোরিয়ান শিল্প শৈলীর চমৎকারনিদর্শন এই লাল দালান। খুলনা বিভাগের অন্যতম প্রধান স্কুল।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

ড. তরুণ কান্তি শিকদার 

গবেষক ও প্রশাসক উপ সচিব  

বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক ) হিসেবে বরিশাল জেলায় কর্মরত আছেন। 

 

ফেইসবুকে খুলনাপিডিয়া

   

গণমাধ্যমে খুলনা পিডিয়া

Call for setting up IT village in Khulna

ডিজিটাল খুলনা উৎসব আজ

আজকের আবহাওয়া

খুলনা ডিরেক্টরি

খুলনার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের,যোগাযোগের ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানার ডাটা বেইজ সংরক্ষণ করা হবে ।

মানচিত্রে খুলনা

উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা

দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সংক্রান্ত তথ্য,বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য গবেষণা সংস্থারগবেষণাপত্র এই বিভাগে পাওয়া যাবে।